প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে কী সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো?

 রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

ছবির উৎস,Chief Adviser Press wing

ছবির ক্যাপশান,রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুইবারের পক্ষে হেফাজত

প্রধান উপদেষ্টার সাথে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।

সেখানে তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাব করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, “সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন আয়োজনের কথা আমরা বলেছি। তারাও বলেছেন সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজন করবেন”।

তাহলে এই যৌক্তিক সময় কতদিন হতে পারে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. হক বলেন, “এই যৌক্তিক সময় কতদিন হবে সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন আলোচনা হয় নি, আর আমাদের পক্ষ থেকেও কোন ধরনের সময় বেধে দেয়া হয় নি।

বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তে ভোটের হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টনে সংস্কার প্রস্তাব করে সমমনা এই ছয়টি ইসলামী দল।

বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের এই নেতা বলেন, “বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনা, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক ক্ষমতা না রেখে ভারসাম্য তৈরি করা সহ আরো কিছু সাংবিধানিক সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা”।

এছাড়া হেফাজতে ইসলামের নামে বিভিন্ন সময় হওয়া মামলা প্রত্যাহার, শাপলা চত্ত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের দাবিও জানান তারা।

এই বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও হেফাজতে ইসলাম এই ছয়টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে সৈয়দ রেজাউল করীম

ছবির উৎস,Chief Adviser Press wing

ছবির ক্যাপশান,প্রধান উপদেষ্টার সাথে সৈয়দ রেজাউল করীম

নির্বাচনের রোডম্যাপ চায় ইসলামী আন্দোলন

হেফাজতে ইসলামের পরই বৈঠক হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে।

সেখানে তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপও ঘোষণার দাবি জানায়। একই সাথে দলটির পক্ষ থেকে ১৩ দফা লিখিত প্রস্তাব জানানো হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের কাছে।

বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলনের আমীর সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “এখন যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় এই নির্বাচনে কালো টাকার দৌরাত্ন এবং পেশিশক্তি যাদের আছে তারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়। আমরা সেই পদ্ধতির সংস্কারের কথা বলেছি”।

চরমোনাই পীর হিসাবে পরিচিত মি. করীম বলেন, “সংখ্যানুপাতিক হারে নির্বাচন হতে হবে। দল ও মার্কা থাকবে। যে দল যে পরিমাণ ভোট পাবে সেই অনুযায়ী পার্লামেন্টে থাকবে সেই অনুযায়ী দেশ পরিচালনা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসহ সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

কোন কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুই মেয়াদের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান চালুরও দাবি জানানো হয়। জাতীয় সংসদে ভোটের হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের প্রস্তাব করেছে কোন কোন রাজনৈতিক জোট।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ভিত্তিতে সংস্কারের রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা”।

তবে এসব সংস্কারের কতদিন সময় লাগবে কিংবা বর্তমান সরকার কতদিন দায়িত্বে থাকবে সেটি নিয়েও জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে প্রেস সচিব মি. আলম বলেন, “বর্তমান সরকারের জন্য যৌক্তিক সময় কতদিন তা সংস্কার প্রস্তাবের পরই বলা যাবে। এখনই তা বলার সুযোগ নেই। তবে সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোন সময় বেধে দেয়া হয় নি”।

হেফাজত

প্রধান উপদেষ্টার সাথে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল বেশ কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।

সেখানে তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাব করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেছেন, “সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন আয়োজনের কথা আমরা বলেছি। তারাও বলেছেন সংস্কার শেষে নির্বাচন আয়োজন করবেন”।

তাহলে এই যৌক্তিক সময় কতদিন হতে পারে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. হক বলেন, “এই যৌক্তিক সময় কতদিন হবে সেটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন আলোচনা হয় নি, আর আমাদের পক্ষ থেকেও কোন ধরনের সময় বেধে দেয়া হয় নি।

বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তে ভোটের হারের ভিত্তিতে আসন বণ্টনে সংস্কার প্রস্তাব করে সমমনা এই ছয়টি ইসলামী দল।

বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের এই নেতা বলেন, “বিচার বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনা, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রিক ক্ষমতা না রেখে ভারসাম্য তৈরি করা সহ আরো কিছু সাংবিধানিক সংশোধন আনার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা”।

এছাড়া হেফাজতে ইসলামের নামে বিভিন্ন সময় হওয়া মামলা প্রত্যাহার, শাপলা চত্ত্বরসহ বিভিন্ন ঘটনায় হতাহত ও নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতসহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের দাবিও জানান তারা।

এই বৈঠকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও হেফাজতে ইসলাম এই ছয়টি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার সাথে সৈয়দ রেজাউল করীম


এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন

Post a Comment

Previous Post Next Post